1. [email protected] : admin001 :
  2. [email protected] : Khairul Islam Sohag : Khairul Islam Sohag
  3. [email protected] : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  4. [email protected] : JM Amin Hossain : JM Amin Hossain
  5. [email protected] : Soyed Feroz : Soyed Feroz
  6. [email protected] : Masud Sarder : Masud Sarder
  7. [email protected] : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  8. [email protected] : Md. Imam Hoshen Sujun : Md. Imam Hoshen Sujun
  9. [email protected] : Royal Imran Sikder : Royal Imran Sikder
  10. [email protected] : amsitbd :
আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর, স্বজন হারানোর বেদনা ভোলেনি উপকূলবাসী | সময়ের খবর
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর, স্বজন হারানোর বেদনা ভোলেনি উপকূলবাসী

ডেক্স রিপোর্ট:
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এ দিনে উপকূলজুড়ে বয়ে যায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বুঝতে না পারায় ১০ লাখের বেশি মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল সেদিন। বন্যার পানিতে ভেসে যায় গবাধি পশু, হাঁস-মুরগি, ক্ষেতের ফসল, গাছপালা।

ধ্বংসযজ্ঞে বিরানভূমিতে পরিণত হয় পুরো উপকূল। চারিদিকে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় লাশ আর লাশ। যারা বেঁচেছিলেন তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে বাতাস। তখনকার পূর্বদেশ পত্রিকার ভোলা জেলা প্রতিনিধি এম হাবিবুর রহমানের প্রতিবেদনের বদৌলতে ৫ দিন পর রাজধানীসহ পুরো দেশ জানতে পারে ধ্বংসলীলার কথা।

খবর শুনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন ভোলা, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও মনপুরায়। তার সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

অর্ধশত বছর পরও স্বজন হারানোর ব্যথা ভুলতে পারেননি উপকূলের বাসিন্দারা। আজ ১৬ জেলার ৫৪ উপজেলায় একসঙ্গে পালন করা হবে উপকূল দিবস।

ভোলা ও মনপুরা প্রতিনিধি জানান- ১২ নভেম্বর ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী ও চট্টগামের উপর দিয়ে যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ধ্বংসলীলা খেলে যায় তার নাম গোর্কি। সেদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার কথা যুগান্তরকে জানান মনপুরার মফিজা খাতুন।

তিনি বলেন, সেদিন তার নিজের ৭ সন্তানসহ পরিবারের ৩৫ সদস্যের মৃত্যু হয়। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণ পরে ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় পানি মনপুরার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। কারণ সে সময় মনপুরায় কোনো বেড়িবাঁধ ছিল না। তখন তিনি তার কোলের ৫ মাসের কন্যা সন্তানকে নিয়ে খেজুর গাছে আশ্রয় নেন। কোল থেকে সন্তানটি পড়ে গেলে তাকে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় প্রথমে কাঠ ও পরে বেঁচে থাকার জন্য মরা গরুর লেজ ধরেন। লেজ ধরা অবস্থায় সাগরে ৭ দিন ভাসতে থাকেন। পরে একটি জাহাজের নাবিকরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১ মাস চিকিৎসা শেষে মনপুরায় ফিরে আসেন। সাগরে ভেসে যেতে দেখেছেন মানুষের লাশসহ পশু-পাখি, মরা গবাধি পশুর মিছিল। স্বজনদের কথা মনে করতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন সেই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী মফিজা খাতুন।

মনপুরা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাশেম মাতাববর জানান, ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায়নি এমন কোনো ঘর নেই। স্বজন হারোনোর ব্যথা আজও ভুলতে পারেননি। ঘূর্ণিঘড়ের পর বঙ্গবন্ধু ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন মনপুরায়। তিনি এখানে একটি চিন্তানিবাস স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর কাজ শুরুও হয়েছিল। কিন্তু ’৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের পর অজানা কারণে চিন্তানিবাসটি স্থাপন হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এখানে যেন দ্রুত চিন্তানিবাসটি স্থাপন করা হয়। এ দিনটিকে উপকূল দিবস ঘোষণার দাবিতে আজ মনপুরা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন সভা সমাবেশ করবে। যারা মারা গেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল হবে।

দিনটিকে স্মরণে আজ ভোলা প্রেস ক্লাবে স্মৃতিচারণ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। উপকূল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপকূলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। চরফ্যাশন প্রতিনিধি জানান, গোর্কির ছোবলে সব হারানো স্মৃতি নিয়ে এখনও অনেকে বেঁচে আছেন। এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম বলেন, ঝড়ের ছোবল থেকে বেঁচে থাকা পরিবারের একমাত্র সদস্য আমি। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাই।

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, ভয়াল স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা উপজেলা সদরের অজুফা (৭০) ও আবু কালাম (৬৫) জানান, তীব্র বেগে পানির সঙ্গে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসে পাহাড় সমান ঢেউ। মুহূর্তে বসতঘর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া মানুষ বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। পরের দিন পথে প্রান্তরে গবাদিপশু ও মানুষের লাশ আর লাশ দেখতে পান।

সৈয়দজাফর গ্রামের সোহেল জানান, তাদের বাড়ির ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। তার বাবা আবদুল হকসহ তাদের পরিবারের ৯ সদস্যর মধ্যে তার বাবাই বেঁচে ছিলেন।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, সেদিন রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ৮ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও, প্রিয়জন হারানো মানুষরা এ দিনটিকে ভুলতে পারেননি। প্রতি বছরের এ দিনে রামগতি ও কমলনগরের মানুষ শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জেলাজুড়ে দিনটি পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে আজ জেলার বিভিন্ন জায়গায় মিলাদ মাহফিল, কোরআন তেলওয়াত, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।

রামগতি ও কমলনগরবাসীর দাবি, ভয়াবহ এ দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করা হোক। এ দিনকে ঘোষণা করা হোক ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে।

আপনার মতামত এখানে লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ
স্বত্বাধিকারী: রুরাল ইনহ্যান্সমেন্ট অর্গানাইজেশন (রিও) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সমাজসেবা থেকে নিবন্ধনকৃত।
Developed BY: AMS IT BD
Translate »