1. [email protected] : admin001 :
  2. [email protected] : Khairul Islam Sohag : Khairul Islam Sohag
  3. [email protected] : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  4. [email protected] : JM Amin Hossain : JM Amin Hossain
  5. [email protected] : Soyed Feroz : Soyed Feroz
  6. [email protected] : Masud Sarder : Masud Sarder
  7. [email protected] : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  8. [email protected] : Md. Imam Hoshen Sujun : Md. Imam Hoshen Sujun
  9. [email protected] : Royal Imran Sikder : Royal Imran Sikder
  10. [email protected] : amsitbd :
অদৃশ্য ভয়ের দেয়ালের আড়ালে লুকায়িত আজ স্বপ্নগুলো | সময়ের খবর
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দারুস সালাম সলঙ্গা এর ২য় বর্ষে পদার্পণে সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নিখোঁজের একদিন পরে স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার  সলঙ্গা থানা আ.লীগের বর্ধিত সভায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ সেনবাগে স্বামীকে হত্যার অভিযগে দ্বিতীয় স্ত্রী আটক কালীগঞ্জের সেই অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানাতেৃ সাধারন ডায়েরি কাউখালীতে সাজাভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার রামপালে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে আগে কেটেছে পটল ও পেয়ারা  ক্ষেত,এবার পুকুরে বিষটোপ দিয়ে মাছ নিধন  থানায় অভিযোগ বিনা ছুটিতে সহকর্মী চিকিৎসকের বিয়েতে, তিন চিকিৎসককে শোকজ! রামগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন

অদৃশ্য ভয়ের দেয়ালের আড়ালে লুকায়িত আজ স্বপ্নগুলো

মজিবর রহমান চৌধুরী মুকুল, সিনিয়র শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, সৈয়দপুর।
  • আপডেট: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

জনপ্রিয় এক গানে শুনেছিলামঃ
‘পৃথিবী বদলে গেছে (The world has changed)
যা দেখি সবি অবাক লাগে।’ (Everything I see is surprising.)

করোনা ভাইরাস মহামারিতে পৃথিবী অনেকটাই বদলে গেছে। তবে বদলায়নি শুধু প্রকৃতি; বদলেছে মানুষ এবং তাদের জীবনাচরণ। মানুষ এখন সহজে একজন আরেকজনের কাছে ঘেঁষে না। একে অপরের সাথে হাত মেলায় না। অনেকদিন পর আপনজনের দেখা পেয়েও দৌঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে না। অদৃশ্য ভয়ের এক দেয়ালে কাছে গিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না, কারণ সে দেয়াল ভাঙতে যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রয়োজন। আগে মানুষ টিভি সেটের সামনে বসে খবর, টকশো, নাটক ইত্যাদি দেখত। কিন্তু এখন টিভির সামনে বসে শুনতে চায় করোনার আপডেট। করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা শুনতে শুনতে মানুষের মন আজ ভীত, ক্লান্ত ও শ্রান্ত। কখন সেই দিনটির দেখা মিলবে যেদিন অধ্যাপিকা ডাঃ নাসিমা আপা শুনাবেন সেই প্রিয় কাঙ্ক্ষিত অমৃত বানী আজকে বাংলাদেশে কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। অমুখ ঔষধে ভীষণ কাজ হচ্ছে। কিন্তু সব আশাই গুঁড়ে বালি। কোনো সুসংবাদ নেই। শুধু করোনার সংক্রমণ ও আক্রমণের উর্ধ্বগামীতার খবর আর সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ। আজ কোনোকিছু নাড়তে বা ছুঁতেই ভয় লাগে। মানুষ আগেও মরতো কিন্তু ততটা ভয় লাগতো না যতটা এখন লাগে।

ভয়াল এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রধান সমস্যা দেখা দেয় অক্সিজেনের অর্থাৎ অক্সিজেনের মধ্যে ডুবেও যেন আমরা অক্সিজেন পাই না। যেমনটা ST. Coleridge তার কবিতায় লিখেছিলেন-

Water, Water, Water everywhere water.
But there is no water to drink.

এখানে তিনি সমুদ্রের পানির কথা বলেছিলেন যেখানে প্রচুর পানি থাকা সত্ত্বেও পানের উপযোগী পানি এক ফোটাও নেই। তেমনি প্রকৃতিতে অফুরন্ত অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগী অক্সিজেন নিতে পারে না।

বাতাসে ভেসে বেড়ানো করোনা ভাইরাস কী শক্তি সামর্থ নিয়েই না হাজির হয়েছে, সুন্দর দালান-কোঠা, গাছপালা না ভেঙ্গেই মানুষের সাথে অতি নিপুনতার সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। ওখানেই এই ভাইরাসের কারিশমা। করোনা অবশ্য কিছু কিছু মানুষের মনে অনেকখানি পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অনেককে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে। তাদের কষ্ট বুঝতে শিখিয়েছে। দেশে পুলিশ, ডাক্তার সহ কিছু পেশার কিছু ব্যক্তির খারাপ কর্মের কারনে মানুষের মনে যে নেতিবাচক ধারণা জন্মেছিল করোনা তাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে তাদেরকে মানুষের কাছে ইতিবাচক করে তুলেছে।

করোনাকালীন সময়ে কিছু মানবিকতার গল্প শুনে যেমন মন ছুঁয়ে যায় তেমনি নেতিবাচক ঘটনার খবর শুনে মন বড়ই ব্যথিত হয়ে যায়। যখন শোনা গেল মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ Derek Chauvin কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়িডের ঘাড় পা দিয়ে চেপে ধরেছিল আর ফ্লয়িডের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তখন ফ্লয়িড বলেছিলেন- ‘I can’t breathe.’ অর্থাৎ, আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। করোনা রোগীরা যারা করোনার চার স্তরের শেষ ধাপ Critical পর্যায়ে পৌঁছায় তারাও ডাক্তারকে ঠিক ঐ কথাই বলেন। যে, I can’t breathe. অর্থাৎ আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। রোগীর কাছে তখন অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র সে ভেন্টিলেটর যেন শুধুই একটা ফাপা সিলিন্ডার, শরীর আছে কিন্তু তার প্রাণ সে অক্সিজেন নেই।

করোনা রোগীর সাথে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়িডের কথাটির কি অদ্ভুত মিল। করোনার কারণে বিশ্বে আজ মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন হলেও কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গদের দ্বন্দ্বের শিকল আজও ছিঁড়ছে না। কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ বিরোধের জের ধরে আমেরিকা ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী কয়েকটি দেশে পূর্ববর্তী রাজা মহারাজের মূর্তি ভাঙ্গন মানুষকে সাময়িক শান্তি দিলেও এই বিরোধের চিরতরে অবসানই কেবল তাদের মনে প্রাণে প্রশান্তি দিতে পারে।

শ্বেতাঙ্গরা বলতে, আমরা সাধারণত ইউরোপিয়ানদের বুঝে থাকি। যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর। আর কৃষ্ণাঙ্গদের আবাস বলতে আমরা বুঝি আফ্রিকা মহাদেশকে। যা অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ নামে পরিচিত। যার কারণে কৃষ্ণাঙ্গরা একসময় শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পশ্চাৎপদ ছিল। এ কারণে রবীন্দ্রনাথের আফ্রিকা কবিতায় তাঁরই বর্ণনা ছিল-
‘হায় ছায়াবৃতা (Oh the shadow)
কালো ঘোমটার নিচে অপরিচিত ছিল তোমার মানব রূপ।‘ (Your human form was unfamiliar under the black veil.)

এরপর শ্বেতাঙ্গরা সমুদ্রপথ আবিষ্কার করে এলো তারা আফ্রিকায়। তখন তারা দুর্দান্ত দাপটে শাসিয়ে বেড়াল মানুষগুলোকে। অত্যাচার নিপীড়নের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছিল আপন অমানবিকতাকে। ওই আফ্রিকা কবিতায়ই বলা আছে –

‘নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে;
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
বীভৎস কাদার পিণ্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।‘

শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গদের মনের শ্বাশ্বত স্নায়ু যুদ্ধকে উপেক্ষা করে প্রথম শ্বেতাঙ্গ সুজান আর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পোর্টারের যখন বিয়ে হয়েছিল তখন ধরিত্রীতে যেন এক শান্তির সমীরণ বয়ে গিয়েছিল এবং পালটিয়ে দিয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিরোধের ইতিহাস। বিয়ের পরে সুজান ও পোর্টার বলেছিলেন-

‘A lot of heavens will come down and Africa will be saved.’

অর্থাৎ অনেক স্বর্গ নেমে আসবে আর পৃথিবী হবে নিরাপদ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাটি এই যুগে এসেও আমাদেরকে বড়ই ব্যথিত করছে। অথচ আমরা দেখেছি বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা নেলসন মেন্ডেলাকে যিনি ২৭ বছর কারাবাসের ১৯ বছরই রোবেন আইল্যান্ডের জেলখানায় কাটিয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই আমাদের এই পৃথিবী করোনা মুক্ত, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিরোধ মুক্ত সহ সমস্ত বিরোধ মুক্ত হয়ে এক নিরাপদ আবাস ভূমিতে পরিণত হোক এ কামনায়।

আপনার মতামত এখানে লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ
স্বত্বাধিকারী: রুরাল ইনহ্যান্সমেন্ট অর্গানাইজেশন (রিও) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সমাজসেবা থেকে নিবন্ধনকৃত।
Developed BY: AMS IT BD
Translate »