1. [email protected] : admin001 :
  2. [email protected] : Khairul Islam Sohag : Khairul Islam Sohag
  3. [email protected] : Mizanur Rahman : Mizanur Rahman
  4. [email protected] : JM Amin Hossain : JM Amin Hossain
  5. [email protected] : Soyed Feroz : Soyed Feroz
  6. [email protected] : Masud Sarder : Masud Sarder
  7. [email protected] : Kalam Sarder : Kalam Sarder
  8. [email protected] : Md. Imam Hoshen Sujun : Md. Imam Hoshen Sujun
  9. [email protected] : Royal Imran Sikder : Royal Imran Sikder
  10. [email protected] : amsitbd :
মানব সভ্যতার ইতিহাসে মহামারি সৃষ্টিকারি নভেল করোনা | সময়ের খবর
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দারুস সালাম সলঙ্গা এর ২য় বর্ষে পদার্পণে সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নিখোঁজের একদিন পরে স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার  সলঙ্গা থানা আ.লীগের বর্ধিত সভায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ সেনবাগে স্বামীকে হত্যার অভিযগে দ্বিতীয় স্ত্রী আটক কালীগঞ্জের সেই অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানাতেৃ সাধারন ডায়েরি কাউখালীতে সাজাভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার রামপালে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে আগে কেটেছে পটল ও পেয়ারা  ক্ষেত,এবার পুকুরে বিষটোপ দিয়ে মাছ নিধন  থানায় অভিযোগ বিনা ছুটিতে সহকর্মী চিকিৎসকের বিয়েতে, তিন চিকিৎসককে শোকজ! রামগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন

মানব সভ্যতার ইতিহাসে মহামারি সৃষ্টিকারি নভেল করোনা

মো. আবু ইউসুফ, প্রভাষক হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজ, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী।
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন ভাষার করোনা থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ “মুকুট”। কারণ দ্বিমাত্রিক সঞ্চালন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটির আবরণ থেকে গদা-আকৃতির প্রোটিনের কাঁটাগুলির কারণে এটিকে অনেকটা মুকুট বা সৌর করোনার মত দেখায়। ভাইরাসের উপরিভাগ প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিন সংক্রমিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে।

ভাইরাসটি ডাইমরফিজম রুপ প্রকাশ করে। ধারনা করা হয়, প্রাণীর দেহ থেকে এই ভাইরাস প্রথম মানবদেহে প্রবেশ করে। ভাইরাসটির নামকরণের সাথে এর কাজের সার্থকতা রয়েছে, কারণ গোটা পৃথিবীর মানুষের মস্তিষ্কে একভাবে রাজত্ব করছে এবং আতংক ও দুশ্চিন্তার মুকুট হয়ে সবাইকে তারা করে বেড়াচ্ছে এই অদৃশ্য ভাইরাস।

উত্তর আধুনিক যুগে এসেও মানুষ এই অনুজীবের বিরুদ্ধে লড়তে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া তেমন কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতিকার বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি মানুষ। পুরো বিশ্বকে গৃহবন্দী করে মানুষকে তাড়াতাড়ি করছে ভারচুয়াল জগতে দিকে।

তাহলে আগামী বিশ্ব কি হবে প্রযুক্তি বনাম ভাইরাস, প্রচলিত মুদ্রা বনাম বিট কয়েন ?? করোনা ভাইরাসের প্রভাব কি হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এটা কতদিন স্থায়ী হয় তার উপর। এই আলোচনা করার পূর্বে আমরা দেখবো যুগে যুগে কিভাবে মানব সভ্যতার গতি পথ পরিবর্তন করে দিয়েছে এই ভাইরাস বা অনুজীব নামক মহামারি।
ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষ এই অণুজীবদের আক্রমণের শিকার হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে কোটিতে কোটিতে, অথচ কারা এই প্রাণহাণির কারণ তা মানুষের বুঝে উঠতে লেগেছে লক্ষ লক্ষ বছর।

ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারেরও বেশ কিছু সময় পর, রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস সম্পর্কে মাত্র মানুষ জানতে শুরু করে ঊনবিংশ শতাব্দির একেবারে শেষভাগে। কয়েকশ বছর আগেও এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মহামারিগুলোর কারণ হিসেবে অণুজীবকে কল্পনা করা দুরূহ ছিলো।

বিভিন্ন দেব-দেবীর কর্মকাণ্ড বা মানুষের পাপের শাস্তি ইত্যাদিকে অণুজীবসৃষ্ট মহামারির কারণ হিসেবে কল্পনা করা হতো। কিছুদিন আগেও আমাদের দেশের মানুষ কলেরার কারণ হিসেবে কাল্পনিক ‘ওলা বিবি’কেই চিহ্নিত করতো, জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে যার উল্লেখ আমরা পাই। মানুষ কারণ সম্পর্কে জানুক আর না জানুক, ইতিহাসে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীবসৃষ্ট মহামারির প্রভাবে সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে, পাল্টে গেছে সমাজ সংগঠন-অর্থনীতি। মহামারির ইতিহাস ও মানুষের মধ্যে তার প্রভাব নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, বইপত্র লেখা হয়েছে।

প্রাগঐতিহাসিক যুগঃ
মানুষের প্রাচীন ফসিল বিশ্লেষণ করে স্মলপক্স, টিউবারকুলোসিসসহ বিভিন্ন রোগের নিদর্শন পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আদিম মানুষ যেহেতু জানতো না অণুজীব সম্পর্কে, অণুজীব থেকে বাঁচতে তার নিজের শরীরেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় ছিলো না। কখনো কখনো দৈবক্রমে কোন ভেষজজ গুণাবলি সম্পন্ন ফল-মূল, লতাপাতা ইত্যাদি তাদের বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করলেও, অণুজীবের বিরুদ্ধে সচেতন লড়াই তাদের করা সম্ভব ছিলো না। প্রাচীন যুগে যুগে মানুষ যেহেতু ছিলো ছোট ছোট গোত্রে বিভক্ত, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তারা দ্রুত চলে যেত, জীবনযাপন ছিলো যাযাবর ধরনের, তখন মহামারির ব্যাপক বিস্তৃতি সেভাবে সম্ভবপর ছিলো না।

ঐতিহাসিক যুগঃ
আজ থেকে প্রায় বারো হাজার বছর আগে মানুষ কৃষি বিপ্লবের ফলে যাযাবর জীবন থেকে জমিতে থিতু হওয়া শুরু করে, পত্তন হয় নগর সভ্যতার। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে জনসংখ্যা যেমন বাড়লো, তেমনি বাড়লো রোগ বালাইয়ের প্রকোপ। মানুষ পশুপাখিকে যখন গৃহপালিত করতে শিখলো, তখন সেই গৃহপালিত পশু পাখি থেকেও মানুষ সহজে সংক্রমিত হয়েছে।

প্রাচীন যুগঃ
অন্যদিকে, নগর সভ্যতায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা একটা জটিল কাজ। সেই কারণেও মহামারি ব্যাপক আকার ধারণ করে। এর ফলে গ্রামকে গ্রাম উজার হয়েছে, নগরসভ্যতা হারিয়ে গেছে মহামারিতে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক রচনাতে আমরা এসব মহামারি ও মানব সভ্যতায় তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবের নিদর্শন পাই।

ওল্ড টেস্টামেন্টে যেমন ঈশ্বরের শাস্তি হিসেবে মহামারির নিদর্শন আমরা পাই, তেমনি প্রাচীন গ্রিসের ইতিহাসবিদ থুসিসাইডিসের রচনাতেও মহামারির উল্লেখ পাওয়া যায়। থুসিসাইডিসের রচনা থেকে আমরা জানি, পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ যখন সংগঠিত হয়েছিলো গ্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে তখন টাইফাস মহামারিতে এথেন্সের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মারা যায়, যার কারণে স্পার্টার জয়লাভ সম্ভব হয়েছিলো। ইতিহাস থেকে আমরা জানি, ১৬৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমে স্মল পক্স মহামারিতে বহু মানুষ মারা যায়, রাজপরিবারের সদস্যরাও এর প্রকোপ থেকে বাঁচেনি। বিখ্যাত রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের ভাই লুইসিয়াস ভেরাসের মারা গিয়েছিলেন। ২৫০ খ্রিষ্টাব্দে সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারী রোমান সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে দেয়।

মধ্যযুগঃ
পঞ্চম শতাব্দীতে একদিকে যুদ্ধ অন্যদিকে এই মহামারি পরাক্রমশালী পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যকেই শেষ করে দেয়। আবার ষষ্ঠ শতাব্দির প্রথমভাবে সালে রোমান সাম্রাজ্যেও পূর্ব অংশের সম্রাট জাস্টিনিয়ান ওয়ান, রোমান সাম্রাজ্যকে আবার আগের মত প্রতাপশালী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন, বিউবনিক প্লেগ মহামারিতে তাঁর মৃত্যু সেই সম্ভাবনাকেও শেষ করে দেয়। পরবর্তী দুই শতাব্দিতে বিউবনিক প্লেগে প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যায়, যা তৎকালীন জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ। ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ‘দি ব্ল্যাক ডেথ’ বলে পরিচিত প্লেগ মহামারি পৃথিবীর জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ হয়। এই রোগ সম্ভবত এশিয়ায় উৎপত্তি হয় এবং পরবর্তীতে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্লেগের কথা বিভিন্ন সাহিত্যে উঠে এসেছে, এবং আমরা দেখেছি গোটা ইউরোপের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। গোটা ব্রিটেনের সামন্ত ব্যবস্থা এই প্লেগের কারণে বিপর্যস্ত হয় এবং নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শর্ত তৈরি হয়। গ্রীনল্যান্ডের প্রতাপশালী ভাইকিং জলদস্যুরা এই মহামারির ফলে সমুদ্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

আধুনিক যুগেঃ
পঞ্চদশ শতাব্দির শেষভাগে, ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জে স্প্যানিশ বণিকেরা নিয়ে আসে ভয়ংকর স্মলপক্স, বিউবনিক প্লেগ ও হামের মত জীবাণু। ইউরোপিয়ানরা এইসব রোগ প্রতিরোধী হলেও ক্যারিবিয়ানের মানুষের শরীরে এই রোগের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিলো না। এর ফলে প্রায় ৯০ ভাগ আদিবাসী জনগোষ্ঠী এইসব রোগে মৃত্যুবরণ করে। উপনিবেশিক শক্তি গোটা আমেরিকা মহাদেশে শুধু তরবারি দিয়েই হত্যা করে নি, রোগ বালাই নিয়ে এসেও মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। ১৫২০ সালে ইউরোপিয়ানদের সাথে আসা একজন আফ্রিকান দাস স্মলপক্স নিয়ে আসলে গোটা এজটেক সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারি।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দিতে ইউরোপিয়ানদের বয়ে আনা জীবাণুর কারণে আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আদিবাসীদের এই গণহারে মৃত্যু গোটা আমেরিকা মহাদেশে ইউরোপিয়ানদের আধিপত্য করার সুযোগ করে দেয়। ১৬৬৫ সালের দিকে ‘দি গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন’-এ লন্ডনের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া কলেরা
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে সৈনিকদের মাধ্যমে ভারতবর্ষে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষ ছাড়াও স্পেন, আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও আমেরিকায় দেড়শ বছরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কলেরায় মারা যায়। ১৮৫৫ সালের দিকে চীন, হংকং ও ভারতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্লেগে মারা ভুগে যায়।

উত্তর আধুনিক যুগঃ
১৯১৮ সালে শুরু হওয়া স্প্যানিশ ফ্লুতে পৃথিবীতে মারা যায় ৫ কোটি মানুষ। মহামারির এরকম বহু নিদর্শন পাওয়া যায় ইতিহাসে, যা শুধু মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে এমন নয়, গোটা সমাজ-রাজনীতির সমীকরণকেই বদলে দিয়েছে। মহামারি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ডেমোগ্রাফিকে বদলে দিয়েছে, বদলে দিয়েছে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেও ফেলেছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। আজকের যুগে বিজ্ঞানীরা খুব কম সময়ের মধ্যে এখন মহামারির জন্য দায়ী অণুজীবকে সনাক্ত করতে পারেন। তবুও ক্রমবর্ধমান অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ভাইরাসের জিন নকশা পরিবর্তন ইত্যাদি মানুষকে আজও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মহামারির বিপদে ফেলছে।

জীবাণুঘটিত মহামারিতে আগের মত এক ধাক্কায় লক্ষ কোটি মানুষের মৃত্যু বা একটা গোটা সভ্যতার পতন হয়ে যাওয়ার মত সম্ভাবনা আপাতত দেখা না গেলেও, আণুবীক্ষণিক অণুজীবেরা যে এই একবিংশ শতাব্দিতেও মানুষের জীবন সংহার করতে এবং জীবনযাত্রাকে স্থবির করতে সক্ষম তার প্রমাণ আমরা প্রায়শই দেখছি। এর সর্বশেষ উদাহরণ মহামারি সৃষ্টিকারী নভেল করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের নাম নয়, বরং এটি ভাইরাসদের এক ‘ফ্যামিলি’কে নির্দেশ করে। এই ভাইরাস একটি এক সূত্র বিশিষ্ট আরএনএ নিয়ে গঠিত, যে আরএনএ’র মিউটেশন-এর কারণে করোনাভাইরাস গোত্রের ভাইরাসগুলো প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে ঘটা এই মিউটেশনের কারণে ভাইরাস নিজেকে বদলে ফেলে, সে কারণেই নতুন নতুন মহামারি দেখা দেয় এবং নতুন করে যুদ্ধে নামতে হয়ে অণুজীববিজ্ঞানীদের। এর আগে ২০০২ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৩ সালের জুলাইয়ের মাঝে এই করোনাভাইরাস গোত্রেরই আরেক সদস্য সার্স (সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাস ১৭টি দেশে ৭৭৪ মানুষের প্রাণ সংহার করেছিলো। ২০১২ সালে সৌদি আরব থেকে উৎপন্ন এই গোত্রেরই আরেকটি ভাইরাস মার্স (মিডল ইস্ট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম) মধ্যপ্রাচ্যে মহামারী সৃষ্টি করেছিলো। বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, সার্স ভাইরাসটি ছড়িয়েছিলো বাদুড় থেকে, আবার মার্স এসেছিলো উট থেকে।

করোনা ভাইরাসঃ
নভেল করোনাভাইরাসটি চীনের উহান প্রদেশে একটি পশুপাখির বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। চীনে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বহু মানুষ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি,স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইরান,বাংলাদেশসহ মোট ২০০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১২৪৬১৯৬২ জনের বেশি মানুষের দেহে পাওয়া গেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালেও। বাংলাদেশেও আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ এবং মৃত্যু বরণ করেছে ৩ হজারের অধিক। দিন দিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর পরিমাণ বেড়েই চলেছে, থামছে না মৃত্যুর মিছিল। শীত মৌসুমের আগে প্রতিষেধক না আসলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি হবে চরম ভয়াবহ।
বিস্তৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সার্স ও মার্সসৃষ্ট মহামারিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে এই নভেল করোনা ভাইরাসসৃষ্ট মহামারিটি। ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাস সৃষ্টি দেশ চীনসহ পৃথিবীর দুইশত এর বেশি রাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। শুধু চীন নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে এই ভাইরাস ইতোমধ্যেই বিপর্যয়কর প্রভাব রাখতে শুরু করেছে।
নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বব্যপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই নভেল করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন নকশা উন্মোচিত হয়েছে, এর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের অণুজীববিজ্ঞানীরা। চীন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে, মাত্র ছ’দিনে তারা নির্মাণ করেছে আক্রান্তদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

জীবাণুর সাথে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই যুদ্ধে আজ মানুষের হাতে রয়েছে জ্ঞানসম্পদ এবং আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির অস্ত্র। নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনা বা এর প্রতিষেধক আবিষ্কার এখন মানুষের পক্ষে সম্ভব হলেও, তার আগেই এই ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী কতটা ক্ষতি ডেকে আনে তাই এখন দেখার বিষয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই নভেল করোনা ভাইরাসে ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ২ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে উপস্থিতি পাওয়া গেলেও আমাদের সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে এই ভাইরাস সংক্রমণ যেভাবে শুরু হয়েছে তা বেশ বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। করোনাকালে চীনের উহান ও অন্যান্য প্রদেশ থেকে বাংলাদেশীদের ফেরত আনা হয়েছে একটি বিশেষ বিমানে। কিন্তু দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের যে পরিবেশে ও পদ্ধতিতে ‘কোয়ারেন্টাইন’ করে রাখা হয়েছিল, সেটি এই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। চীন থেকে আগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আমাদের বিমানবন্দরে গৃহীত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পর্যাপ্ত পরিমানে এই রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এসব ক্ষেত্রে ন্যূনতম গাফিলতি বা অদক্ষতা দেশকে একটি বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি করতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে মহামারি প্রতিরোধে শুধু বিজ্ঞানীদের কাজ করলেই চলে না, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের এই মহামারি ঠেকাতে উপযুক্ত উদ্যোগ নিতে হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হয়, রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দিতে হয়।

এক্সপার্টদের জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে লড়াই করতে হয় মহামারির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে সরকারকে এখন থেকেই সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলার সর্বাত্মক কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বল্প সময়ে রোগ নির্ণয় ও ভাইরাস সনাক্ত, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করতে হবে গোটা দেশে। এর পাশাপাশি আতঙ্ক না ছড়িয়ে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা, প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে এই সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কী ভূমিকা থাকতে পারে সেই বিষয়ে ব্যাপক প্রচার করা দরকার।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি না করে মহামারি মোকাবিলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অণুজীববিজ্ঞান, জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তির প্রসারের এই যুগে, মানুষ যেমন এখন মহামারি সংক্রান্ত দুর্যোগ সামলাতে যেমন ইতিহাসের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি সক্ষম, তেমনি এই গ্লোবাল ভিলেজে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু মানুষের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি। অথচ, মহামারি ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের সব দেশ সমানভাবে প্রস্তুত নয়।

বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে মহামারি প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত সচেতনতা ও গবেষণা, মাঠ পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এসব দেশে কম আয়ের মানুষেরা আছে বিরাট স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। আজকের যুগে কেবল মহামারির কারণ ও এর প্রতিরোধের রাস্তা আবিষ্কারই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মহামারি ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি কারণ বিশ্বের সুপার পাওয়ার দেশগুলো এই ভাইরাসকে মোকাবিলায় যথেষ্ট হিমসিম খাচ্ছে এবং কোনা ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল।

করোনার সংগ্রামে সচেতনতাই হাতিয়ারঃ
জানি না ডাক্তার বিজ্ঞানীরা সত্বর এর কোন প্রতিষেধক আবিস্কার করতে পারবে কিনা, ভাইরাসটি সাংঘাতিক প্রাণঘাতী, ইমিউনিটি যাদের খারাপ তারা আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি এটাই ভয়ের কারণ। এছাড়া একজন আক্রান্ত হলে পাশে যারা আছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। আপাতত অনেক সচেতনতা দরকার। জনবহুল এলাকা, বাস-ট্রেন, লঞ্চঘাট, এয়ারপোর্ট, হাটবাজার, শপিংমল, বিপনি-বিতান যতটুকু পাড়া যায় এড়িয়ে চলতে হবে। মুখ চেঁপে হাঁচি-কাশি দিন মাস্ক ব্যবহার, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থাকতে হবে। হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা যাবে না। আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পড়ুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পড়ুন।

ভয়ংকর এই করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশের অধিক মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত হয়নি। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বাইরে বেরোবেন না। ঘরের কোণে বন্দী থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে থাকুন। সবাইকে দূরে রাখুন। নিজে বাঁচুন অপরকে বাঁচান। সু্স্থ থাকুন, অপরকে সুস্থ রাখুন।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে চীন ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের অনুজীব বিজ্ঞানীরা। ইউরোপ কান্ট্রিরগুলোতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা ভাইরাস। মরণঘাতী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। তবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সকল দেশের সরকার প্রধানগণ। । বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে আশার আলো দেখতে পেয়েছেন চীন ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত এখানে লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ
স্বত্বাধিকারী: রুরাল ইনহ্যান্সমেন্ট অর্গানাইজেশন (রিও) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সমাজসেবা থেকে নিবন্ধনকৃত।
Developed BY: AMS IT BD
Translate »